মেনু নির্বাচন করুন

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব হিসাবে খ্যাত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সাহেব।
তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন ।

পরে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর শত্রুরা তাকে নিমমভাবে হত্যাকরে । জাতি আজও তাকে স্মরন করে শ্রদ্ধাভরে।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ে ১০ই এপ্রিল, ১৯৭১ – ১৯৭২ উত্তরসূরী শেখ মুজিবুর রহমান ব্যক্তিগত বিবরণ জন্ম নভেম্বর ৩, ১৯২৫ কিশোরগঞ্জ জেলা মৃত্যু ৩ নভেন্বর, ১৯৭৫ ঢাকা, বাংলাদেশ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধর্ম ইসলাম সৈয়দ নজরুল ইসলাম (১৯২৫- নভেম্বর ৩, ১৯৭৫) একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।১০ই এপ্রিল ১৯৭১ - ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরিচ্ছেদসমূহ • ১ পরিচয় • ২ জন্ম • ৩ শিক্ষাজীবন • ৪ কর্মজীবন • ৫ রাজনৈতিক জীবন o ৫.১ মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা o ৫.২ আইনের ধারাবাহিকতা বলবত্করণ আদেশ ১৯৭১ o ৫.৩ মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ভূমিকা • ৬ মৃত্যু • ৭ পরিবার • ৮ তথ্যসূত্র পরিচয় সৈয়দ নজরুল ইসলাম বালাদেশের ইতিহাসের প্রধানতম পুরুষ, যার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার মধ্য দিয়ে পাকিস্থানের হাত থেকে বাংলাদেশ কে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের স্বাধীন ভুখন্ড উপহার দেয় । এই ঘটনাটি বাঙালি জাতিসত্বাকে বিশ্ববাসীর সামনে গর্বিত পূনরূত্থানের সুযোগ করে দেয়। জন্ম শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম ১৯২৫ সালে ময়মনসিংহ জেলার (বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলা) জসোদল বীরদামপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবন তার লেখাপড়ার শুরু যশোদল মিডল ইংলিশ স্কুলে৷ এরপর কিশোরগঞ্জ আজিমুদ্দিন হাই স্কুল আর ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে কাটান তার স্কুল জীবন। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে ১৯৪১ সালে দুই বিষয়ে লেটার মার্কসসহ প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন৷ ১৯৪৩ সালে আনন্দমোহন কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে প্রথম বিভাগে আইএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন৷ তারপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। [১] সৈয়দ নজরুল ইসলাম ১৯৪৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে কৃতিত্বের সাথে বি.এ. (অনার্স), ১৯৪৭ সালে এম.এ এবং ১৯৫৩ সালে এল.এল.বি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৷ সৈয়দ নজরুল ইসলাম ১৯৪৬-৪৭ সালে সলিমুলাহ মুসলিম হল ইউনিয়নের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন ৷ তিনি ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন ৷১৯৪৭ সালে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন ৷ তিনি মুসলিম ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন ৷ ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি সর্বদলীয় একশন কমিটির -এর সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।[২] কর্মজীবন ময়মনসিংহে স্থাপিত জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ১৩৮২ সনের ১লা বৈশাখ তারিখে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিস পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হবার পরও সরকারি চাকুরী প্রত্যাখ্যান করেন৷ তিনি ১৯৪৯ সালে ইতিহাসের প্রভাষক হিসেবে আনন্দমোহন কলেজে যোগদান করেন৷ পরে ১৯৫৫ সালে ময়মনসিংহে আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন৷ রাজনৈতিক জীবন তিনি ১৯৫৭ সালে খ্যাতিমান রাজনীতিক, সু-সাহিত্যিক ও পাকিস্তানের সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আবুল মনসুর আহমেদকে কাউন্সিলের মাধ্যমে হারিয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং এ পদে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ছিলেন ৷[১] ১৯৬৪ থেকে ১৯৭২ তিনি আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন ৷ ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবিতে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন শুরু হলে আইয়ুব সরকার আওয়ামীলীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করার পর সৈয়দ নজরুল ইসলাম দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন ৷ তিনি ছিলেন ডেমোক্রেটিক এ্যাকশন কমিটির (DAC) অন্যতম কর্ণধার।[২] রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূর করার জন্য রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথমে ১৯৬৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরে ১০-১৩ মার্চ দু'দফা এ বৈঠক হয়৷ তিনি আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের অন্যতম নেতা হিসেবে এ সময় বৈঠকে যোগদান করেন[১] মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১৭ আসন থেকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সংসদে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন ৷ তাজউদ্দীন আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্টপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং নিজে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একটা সরকারের কাঠামো তৈরি করেন এবং ১০ এপ্রিল রেডিওতে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাষণ দেন৷ [১] বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে ১৯৭১ সালে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে প্রতিষ্ঠিত অস্থায়ী সরকারের তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন৷ আইনের ধারাবাহিকতা বলবত্করণ আদেশ ১৯৭১ বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে প্রদত্ব ক্ষমতাবলে আইনের ধারাবাহিকতা বলবত্করণ আদেশ নামে একটি আদেশ জারি করেন। ঘোষণাপত্রের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা রক্ষা ছিল এই আদেশের উদ্দেশ্য। এতে বলা হয়, "আইনের ধারাবাহিকতা বলবত্করণ আদেশ ১৯৭১ মুজিবনগর, বাংলাদেশ, ১০ এপ্রিল ১৯৭১, শনিবার ১২ চৈত্র ১৩৭৭ আমি বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে এ আদেশ জারি করছি যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একইভাবে চালু থাকবে, তবে প্রয়োজনীয় সংশোধনী সার্বভৌম স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য করা যাবে। এই রাষ্ট্র গঠন বাংলাদেশের জনসাধারণের ইচ্ছায় হয়েছে। এক্ষণে, সকল সরকারি, সামরিক, বেসামরিক, বিচার বিভাগীয় এবং কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী যারা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেছেন, তারা এতদিন পর্যন্ত নিয়োগবিধির আওতায় যে শর্তে কাজে বহাল ছিলেন, সেই একই শর্তে তারা চাকুরিতে বহাল থাকবেন। বাংলাদেশের সীমানায় অবস্থিত সকল জেলা জজ এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং সকল কূটনৈতিক প্রতিনিধি যারা অন্যত্র অবস্থান করছেন, তারা সকল সরকারি কর্মচারীকে স্ব স্ব এলাকায় আনুগত্যের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন।এই আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়েছে বলে গণ্য করতে হবে।"[৩][৪] মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ভূমিকা বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের পর সৈয়দ নজরুল ইসলাম শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ৷ ১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ময়মনসিংহ-২৮ আসন থেকে ৷[২] নির্বাচনের পর পরবর্তী মন্ত্রীসভায় ও তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন ৷ জাতীয় সংসদে তিনি উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৷ পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও গ্রহণ করেন। মৃত্যু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পর তাঁকে প্রথমে গৃহবন্দী এবং ২৩শে আগস্ট, ১৯৭৫ তাঁকে গ্রেফতার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী করা হয় ৷ কারাগারে বন্দী থাকা অবস্হায় ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় সৈয়দ নজরুল ইসলামকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (জন্ম: ১ জানুয়ারি ১৯৫২) একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি বর্তমানে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।

প্রাথমিক জীবন

আশরাফুল ইসলাম একজন বাংলাদেশী বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ। তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং এর আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

আশরাফুল ৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধের একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছাত্রলীগের সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

কর্ম ও রাজনৈতিক জীবন

১৯৭৫ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্য তিন জাতীয় নেতার সাথে আশরাফের পিতাকে হত্যার করা হয়। পিতার মৃত্যুর পর আশরাফ যুক্তরাজ্যে চলে যান এবং লন্ডনের হ্যামলেট টাওয়ারে বসবাস শুরু করেন। লন্ডনে বসবাস কালে তিনি বাংলা কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। সেসময় তিনি লন্ডনস্থ বাংলাদেশ যুব লীগের সদস্য ছিলেন।

১৯৯৬ সালে আশরাফুল দেশে ফিরে আসেন এবং জুন ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[১] তিনি ২০০১ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

তখন সংসদ বিট কাভার করি। কখনো ওয়াক আউটের পর আবার কখনো অধিবেশন শেষ হবার পর বিরোধীদলীয় উপনেতা এডভোকেট আব্দুল হামিদের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের জন্য ব্রিফ হয়। বিরোধীদলীয় উপনেতার ব্রিফিং কক্ষে প্রবেশের দরজার পাশে সফেদ পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত ভদ্রলোক দাঁড়াতেন। হাতে চামড়ার কালো ব্যাগ। যতক্ষণ ব্রিফিং হতো ভদ্রলোক এক জায়গাতেই সাধারণত দাঁড়িয়ে থাকতেন। কয়েক দিন যাবার পর সিনিয়র সহকর্মীদের কাছ থেকে পরিচয় জানলাম, তিনি বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এরপরে সালাম দিতাম, হাসিমুখে উত্তর দিতেন। এই পর্ব এখানেই শেষ।

 

১/১১ এর দিনগুলো। একের পর এক নেতা গ্রেফতার হচ্ছেন, কেউ গ্রেফতার হবার ভয়ে পালটি মারছেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বাড়ি সুধা সদনেই পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা কেটে যায়। মাঝে অনেক কথা। সেগুলো আজ লিখবো না, কারণ আজকের লেখার বিষয় শুধুই সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। শেখ হাসিনা গ্রেফতার হয়ে গেলেন, নৌকার হাল ধরলেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের আত্মার আত্মীয় মো. জিল্লুর রহমান। সংবাদ কর্মীদের বিকেলের ঠিকানা গুলশানের আইভি কনকর্ড। জিল্লুর রহমানের আবাসস্থল। সংবাদ পেতে পেতে কখনো বিকেল কখনো সন্ধ্যা। কারণ জিল্লুর রহমান শারীরিকভাবে সুস্থ নন। বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে বা সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।

দিন-তারিখ বলতে পারবো না, হয়তো দু-একজনকে ফোন করলে নির্দিষ্ট করে বলতে পারবেন। লন্ডন থেকে এসে প্রবীন জিল্লুর রহমানের পাশে সাহস হয়ে দাঁড়ালেন সেই  কালো ব্যাগ হাতে সফেদ পাঞ্জাবি পরিহিত মানুষটি। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। খুব একটা আশাবাদী হতে পারলাম না (নিজের স্বল্প জ্ঞানের কারণে)। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ পাশের এমপি হোস্টেলের ৫নং ভবনে থাকা শুরু করেছেন তিনি। কয়েক দিন পরে যাওয়া শুরু করলাম সেখানে। সকালে নিউজ দরকার, টেলিভিশনে কাজ করি, সন্ধ্যায় জিল্লুর রহমানের কাছ থেকে নিউজ পাই, আর সারা সকাল যায় খালি।

এমপি হোস্টেলের বাসায় দুটো মানুষের উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। আওয়ামী লীগের বিদায়ী কমিটির উপ প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ও বিদায়ী সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক। প্রধান দরজা দিয়ে ঢুকেই হাতের বাম পাশে ডাইনিং টেবিল ছিল, সেখানে এই দুই জন চা পান ও ধুমপান করতেন। দুজনের সাথেই সুসম্পর্ক থাকার কারণে সরাসরি তাদের সাথে যোগ দিতাম শুধু চা পানে। সাধারণত ১০টা সাড়ে ১০টার মধ্যে আমি যেতাম। সৈয়দ আশরাফ তখন ঘুম থেকে উঠে প্রাতঃরাশ সেরেছেন বা সারছেন, এমনটাই ঘটতো।

চা পান শেষ হলে আমি পাশের ড্রইং রুমে গিয়ে বসতাম। সাধারণত অল্প কিছু সময় অপেক্ষার পরই আশরাফ ভাইয়ের সাক্ষাত পেতাম। আমি ভাগ্যবানদের মধ্যে একজন, প্রতিদিন না হলেও প্রায়ই আশরাফ ভাইকে ক্যামেরাবন্দী করতাম। অবশ্য অসীম দা আর মোজাম্মেল ভাইয়ের অবদান কম নয়, তারা এ কাজটিতে আমাকে সাহায্য করতেন সব সময়।

সহকর্মী ক্যামেরাম্যানকে বাইরে রেখেই আশরাফ ভাইয়ের রুমে যেতাম। উনাতে যেদিন রাজি করাতে পারতাম (আসলে উনি যেদিন বলবেন বলে ঠিক করতেন) সেদিনই সহকর্মীকে ডেকে পাঠাতাম ভেতরে। আমার প্রতিদিনের রুটিন ছিল সকালে আশরাফ ভাইয়ের এমপি হোস্টেলের বাসায় যাওয়া। অল্প দিনেই মানুষটার ফ্যান হয়ে গেলাম। মার্জিত কথা বলা, যতটুকু দরকার ততটুকুই বলা, চেহারা দেখানোর বাতিক না থাকা ইত্যাদি সবার জানা।

তার বাসার জানালা দিয়ে সরাসরি সংসদের পুরো চিত্রটি দেখা যেত। আশরাফ ভাইয়ের লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনাকে মুক্ত করে তার নেতৃত্বে ওই জাতীয় সংসদে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার। সে সময় এটি কোনো সহজ কাজ ছিল না, ভয়ভীতি আর প্রলোভনে কত শত জন যে পথ হারিয়েছেন, তখন সৈয়দ আশরাফ ছিলেন অবিচল তার লক্ষে। একদিকে দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখা, ঐক্য ধরে রাখা, বিদেশি কূটনীতিকদের সমর্থন আদায় করা আর অন্যদিকে সেনাবাহিনী  সমর্থিত  সরকারের সাথে চোয়াল শক্ত রেখে দাবি আদায় করা, কত কঠিন কাজ। 

ক্রাইসিস ম্যান সৈয়দ আশরাফ সেই লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছিলেন। এ যে রক্তের টান, পিতার অসমাপ্ত কাজ তিনি শেষ করেছিলেন। পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত যেভাবে বিশ্বস্ততার প্রমাণ দিয়ে গেছেন, চরম বিপদের দিনে পুত্র সৈয়দ আশরাফও শেখ হাসিনার জন্য লড়ে গেছেন। কিছু রক্ত কখনো কোনদিন কোন অবস্থাতেই বেইমানি করে না। তার জ্বলন্ত প্রমাণ সৈয়দ আশরাফ। সৈয়দ আশরাফকে ক্রাইসিস ম্যান কেন বললাম সেই ব্যাখা আরেক দিন দেব।

সকাল বিকাল ক্যামেরার সামনে না আসা, অনেক নেতা কর্মীদের তেল গ্রহণ না করা, তদবির না শোনা, দুর্নীতি না করা- এমন হাজারো অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, দেশে যারা আওয়ামী লীগের নিরব সমর্থক, যারা শুধু বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনাকে ভালোবাসেন তারা এমন মানুষই চান। গুটিকয়েক ধান্ধাবাজ, তেলবাজ, সু-সময়ের সাথীদের সৈয়দ আশরাফকে পছন্দ নয়। 

নিজে ঘন ঘন ক্যামেরার সামনে না আসার কারণ হিসেবে একদিন বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সব বিষয়ে কথা বলবে কেন? সে শুধু নীতি নির্ধারণী বিষয়ে কথা বলবে। আর মিডিয়ার সামনে কথা বলার জন্য তো, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তো আছেনই।’ সৈয়দ আশরাফ শুধু নিজেই নেতা হতে চান নাই। নেতৃত্ব গড়তে সুযোগ দিয়েছিলেন। তার কারণেই মাহবুব উল হানিফ নিজেকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছেন।

কথা কম কাজ বেশি- এমন নীতিতেই কাজ করেন সৈয়দ আশরাফ। সাংবাদিক বান্ধব নন, কর্মী বান্ধব নন, তবে তিনি দলের প্রতি বিশ্বস্ত, তার নেত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত আর সর্বোপরি কাজটা কিভাবে করতে হয় সেটা ভালো করেই জানতেন আশরাফ। সততা ও শালীনতা দিয়ে সবার মন জয় করা এই রাজনীতিক কতটা যে দলের কর্মীদের মনের মাঝে জায়গা করে নিয়েছেন তা সেদিন কাউন্সিলেই দেখা গেছে।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মত রাজনীতিকদের ক্রাইসিসের সময়ই চেনা যায় এবং মূল্যায়ন হয়। রাজনৈতিক বিটের কর্মী হিসেবে সবশেষে এটিই বলতে পারি, তার মতো রাজনীতিককে ভবিষ্যতে দরকার পড়বে।

ক্রমিক নং

চেযারম্যান গনের নাম

কায্যকাল

মন্তব্য

জনাব, আ: রশিদ

১৯৭২হইতে ১৯৭৩

রিলিফ কমিটি

জনাব, শাহ মো:আ: আজিজ

১৯৭৩ হইতে ১৯৭৬

বাংলাদেশ

জনাব, মো: আবু হানিফ

২০-০২-১৯৭৭ হইতে০৪-০৩-১৯৮৪খ্রি:

বাংলাদেশ

জনাব,আব্দুর রহমান সরকার

০৫-০৩-১৯৮৪ হইতে ১৯-০৭-১৯৮৮খ্রি:

বাংলাদেশ

জনাব, মো: আবু হানিফ

২০-০৭-১৯৮৮ হইতে ২৯-০৩-১৯৯২খ্রি:

বাংলাদেশ

জনাব, মো: ফজলুল হক ছাদির

৩০-০৩-১৯৯২ হইতে ১২-০২-১৯৯৮খ্রি:

 ১৯৯৩-১৯৯৪অথ বছরে শিক্ষাসফরে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ভ্রমন।

জনাব,আবু বকর সিদ্দিক ধনু

১২-০২-১৯৯৮ হইতে ২৮-০৩-২০০৩খ্রি:

 

জনাব, মো: জাহেদ মিয়া

২৯-০৩২০০৩ হইতে

৩১-০৭-২০১১খ্রি:

 

জনাব, মো: শামছুল হুদা

০১-০৮-২০১১ হইতে

৩১-০৭-২০১৬ খ্রি:

২০১২অথ বছরে সরকারী শিক্ষা সফরে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ভ্রমন  এবং

২০১৫ অথ বছরে সরকারী শিক্ষা সফরে মালয়েশিয়াও ফিলিপাইন ভ্রমন।

 

১০

জনাব,ইমতিয়াজ সুলতান রাজন

০১-০৮-২০১৬ হইতে